ইসলামপুরে প্রতারণার দায়ে স্কুল শিক্ষক জেল হাজতে

কালের কন্ঠ :মুল লেখার লিংক :  জামালপুরের ইসলামপুরে দেলোয়ার হোসেন নামের এক স্কুল শিক্ষককে প্রতারণার দায়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি বলিয়াদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আজ মঙ্গলবার সকালে জামালপুর আদালত থেকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে। আদালতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিমা করে ২৩ জন দরিদ্র কৃষকের কাছে থেকে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ইসলামপূরের বলিয়াদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সম্প্রতি ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর নামে একক ও ক্ষুদ্র বিমা করে মোটা অংকের লভ্যাংশ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান ইসলামপুরের বলিয়াদহ গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সদস্যদের। একপর্যায়ে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলিয়াদহ গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা, রফিকুল ইসলাম, আহালু শেখ, তামশা আলী, খুকি বেগম, রৌশনারা, আরভান বেগম ও সুলেখা বেগমসহ ২৩ জন দরিদ্র কৃষক পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু বিমার জন্য আড়াই লাখ টাকা উত্তোলন করলেও শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন কৃষকদের কাউকে ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর কোনো রশিদ প্রদানে ব্যর্থ হন। পরে কৃষকরা দফায় দফায় বিমার রশিদ অথবা টাকা ফেরত চাইলেও শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন স্থানীয় প্রভাবে কৃষকদের ওই টাকা আত্মসাত করেন। নিরুপায় হয়ে বলিয়াদহ গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা ভুয়া বিমাকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগমকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জামালপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর আজ  মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ওই মামলার জামিন নিতে আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানান, বলিয়াদহ গ্রামের ২৩ জন দরিদ্র কৃষকের টাকা আত্মসাত মামলায় শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জেল হাজতে গেছেন। ভুক্তভোগী কৃষকদের অনুরোধে বিষয়টি একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করলেও শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সাড়া দেয়নি। ইসলামপূরের বলিয়াদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম সেলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি পূর্বে মীমাংসার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করলেও উভয় পক্ষকে একমত করাতে পারিনি। “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *